জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে খুলশী থানার এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সিএমপি। ঘটনা তদন্তে গঠিত হয়েছে ৩ সদস্যের কমিটি।
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় ফেরার পথে জাতীয় দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে (২৬) অটোরিকশা থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর এবং পরবর্তীতে থানায় নিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও পৈশাচিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। একই সাথে পুরো ঘটনাটি সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও ফরিদারপাড়া এলাকায় ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় সশরীরে গিয়ে এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের এসব আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানান।
ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ঢাকা থেকে রাতের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর গলা চেপে ধরা হয় এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও এসআই শফিকুল ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে পাইপ দিয়ে যত্রতত্র আঘাত করেন। এরপর তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও চরম মানসিক নির্যাতন করা হয়, যেখানে তাঁর প্রবীণ বাবা সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমানও হেনস্তার শিকার হন। এই পৈশাচিক আচরণের বিরুদ্ধে ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে এবং মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসের মতো তারকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সিএমপি কমিশনার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না এবং নাঈমের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় পুলিশের সোর্স সোহেলকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে।