বাজেট ২০২৬-২৭ বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র ডিপিএস কর রেয়াত, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত হ্রাস, অর্থবিল ২০২৬ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের (Tax Rebate) সুবিধা কিছুটা কমানোর প্রস্তাব এনেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন বাজেট পেশ করেন। বর্তমানে দেশের করদাতারা সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস ও জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ নির্দিষ্ট ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে সরকার নির্ধারিত নিয়মে কর ছাড় বা রেয়াত পেয়ে থাকেন। তবে নতুন বাজেটের প্রস্তাব অনুযায়ী, অনুমোদিত বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা এবং রেয়াতের হার দুটোই সংকুচিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার ফলে করদাতাদের করের অঙ্ক আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, করদাতার মোট আয়ের শূন্য দশমিক শূন্য ৩ (০.০৩) শতাংশ, মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা,এই তিনটির মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেই পরিমাণ অর্থ চূড়ান্ত কর থেকে রেয়াত হিসেবে বাদ দেওয়া হতো। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর প্রথম বাজেট বক্তৃতায় আগামী অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত বিনিয়োগের এই সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। এই নতুন সমীকরণ কার্যকর হলে প্রতি ১ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে একজন করদাতা আগের চেয়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা কম কর ছাড় পাবেন। নতুন সরকারের এই রাজস্ববান্ধব সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে করের জোগান বাড়লেও, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ চাকুরিজীবী করদাতাদের বিনিয়োগের বিপরীতে কর মওকুফের সুবিধা কিছুটা সীমিত হয়ে আসবে।