দীর্ঘসময় জামায়াতে ইসলামীর ছত্রছায়ায় থাকলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বটবৃক্ষ না হয়ে পরগাছায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে নিয়ে শিবিরের সমালোচনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছত্রছায়ায় রাজনীতি করলে উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপি একসময় ‘পরগাছায়’ পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টের মূল বিষয়বস্তু: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবু কের ওই পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, “সম্প্রতি একটি জনসভা থেকে ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম যেভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে ‘বেইমান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীরা সমস্বরে চিৎকার করে তা সমর্থন জানিয়েছেন—এরপর নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ন্যূনতম সম্মান বা গাটস থাকলে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কোনো বৈঠক বা সমাবেশে তাদের অংশ নেওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও লেখেন, “দেখা যাক, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের ন্যূনতম সেই রাজনৈতিক শক্তি ও দৃঢ়তা আছে কি না, নাকি তারা কেবল ৮টি আসনের লোভে নিজেদের জামায়াতের কাছে পুরোপুরি সঁপে দিয়েছেন।”
এনসিপির ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: এনসিপির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, “আমরা সবসময় চেয়েছি এনসিপি একটি চারাগাছ থেকে মহীরুহ বা বটবৃক্ষ হয়ে উঠুক। কিন্তু দীর্ঘসময় জামায়াতের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকলে তা আর বটবৃক্ষ হওয়ার সুযোগ পাবে না, বরং তা একটি পরগাছায় পরিণত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সামান্য ৮টি আসন পাওয়াকে যদি তারা নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ বা সাফল্য বলে মনে করেন, তবে তা কখনো সংখ্যায় ৮০ কিংবা ১৫০ প্লাস হবে না। বরং এর পরিণামে এনসিপি বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে আরেকটি খণ্ডবিখণ্ড জাসদে পরিণত হবে!”