২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের নিবন্ধিত যাত্রীদের সুবিধার্থে সৌদি সরকারের কাছে আরও ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। একই সঙ্গে আটকে রাখা ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল ফেরত পাওয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা আরও ২০ হাজার বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সংগঠনটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত থেকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের হজে যাওয়া নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এবং মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র, সৌদি আরব থেকে ফেরত পাওয়া মেডিকেল ফিস এবং চূড়ান্ত নিবন্ধনের দিনক্ষণ প্রকাশ করা হয়।
কোটা বৃদ্ধি ও রাজকীয় উদ্যোগের আহ্বান: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৫ মে ২০২৭ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর সৌদি সরকার বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করলেও বাংলাদেশের মূল কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে হজযাত্রী কমে যাওয়ায় কোটা কমিয়ে আনা হয়েছিল। তবে এবার বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়েছে।
নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হওয়ায় পরিবারের একাধিক সদস্য নিবন্ধন করতে পারলেও অনেকেই বাদ পড়েছেন। এ অবস্থায় হাব ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি-কে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত অন্তত ২০ হাজার কোটা বরাদ্দের জোরালো আহ্বান জানায়।
মেডিকেল ফির ৩০ লাখ রিয়াল ফেরত: সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি বছর কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই মেডিকেল ফি বাবদ বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে সেই ৩০ লাখ রিয়াল পুরোপুরি ফেরত পাওয়া গেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন এবং ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনসহ সকল কর্মকর্তাকে হাবের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
চূড়ান্ত নিবন্ধনের শেষ সময়সীমা: সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা জানান, ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত সব যাত্রীকে আগামী ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্যাকেজের সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বাকি অর্থ জমা না দিলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে এবং হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।