মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর চরম মানবিক বিপর্যয়ের এক নতুন স্তরে পৌঁছেছে। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলেছে। শুক্রবার এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে আইডিএফ মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেন, ইরান ইসরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জনবহুল এলাকায় এই বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করছে ইসরায়েল।
তবে যুদ্ধের ময়দানে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে ইরান চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২ ছাড়িয়ে গেছে। তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং প্রতি কয়েক ঘণ্টা অন্তর আকাশপথে হামলায় শহরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গত রাতটিকে যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ‘সবচেয়ে ভয়াবহ রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের আইআরজিসি পাল্টা ২৩তম দফা হামলার ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিকভাবেও ইরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তির একমাত্র পথ হলো ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। তিনি এমন এক নেতৃত্বের খোঁজ করছেন যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুগত থাকবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে।
মন্তব্য করুন