দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Files
প্রকাশ : Nov 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে’

০ শেয়ার
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে’
সংগৃহীত ছবি

খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন নিবন্ধন করেছে।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
  • এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
  • প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়; বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরার বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। দেশের অন্য শিশু-কিশোরদেরও নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে।

শিশুদের উৎসাহ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোরেরা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।

শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’

একদিন বাংলাদেশ শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে এবং বিশ্ববাসী অন্য দেশের পরিবর্তে বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশ তাদের। তাদেরই দেশকে গড়ে তুলতে হবে এবং প্রত্যেককে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও দেখেন তিনি।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে এগিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাজারো শিশু-কিশোর। তারা করতালি ও হাত নেড়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এতে স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে গিয়ে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতার প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল।


ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

২০২৭ সালে বিরল সূর্যগ্রহণ, ৬ মিনিট অন্ধকারে থাকবে যে শহরগুলো

2

অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

3

চার বছর ধরে জনসমক্ষে নেই অং সান সু চি: বেঁচে আছেন কি তিনি?

4

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল: ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জেনে নিন

5

২০২৬ ঈদের সেরা স্মার্টফোন গাইড | বাজেটে সেরা ৪টি ফোন

6

২৬টি ক্যাটাগরিতে সেরা রিপোর্টের জন্য পুরস্কার দেবে নগদ ও ডিআরইউ

7

মাগুরায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই নিহত, আটক ২

8

মালয়েশিয়া যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন

9

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন শাহাদাত হোসেন

10

ঢাকার খুব কাছেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল: অশনি সংকেত?