দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশের মাটিতে ঈদ উদ্যাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৭ বছর লন্ডনে প্রবাস জীবন কাটানোর পর এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে তাঁর প্রথম ঈদ। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরার পর এবং সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এবারের ঈদটি তাঁর জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য বেশ বিশেষ হতে চলেছে। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে প্রথমে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রটোকল অনুযায়ী এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন। কেবল বিশেষ ব্যক্তিরাই নন, সমাজের সব স্তরের সাধারণ মানুষের জন্যও যমুনার দুয়ার সেদিন খোলা থাকবে।
শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক আবেগঘন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তিনি শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকায় পূর্বপুরুষ ও রাজনৈতিক অভিভাবকদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানোর এই সুযোগটি তাঁর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি পরিবারের সঙ্গে একান্ত সময় কাটাবেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ঈদ উদ্যাপন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশের মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই মুহূর্তটি কেবল তাঁর একার নয়, বরং দল ও দেশের মানুষের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা করতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদটি আনন্দ আর আবেগের এক মেলবন্ধন হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন