শরীয়তপুরের ডামুড্যায় যৌতুকের জন্য লামিয়া (২১) নামের এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামী রবিউলকে আটক করেছে পুলিশ।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় যৌতুকের দাবিতে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন লামিয়া আক্তার নামের এক গৃহবধূ। সালিশ বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই স্ত্রীর গলা ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত লামিয়া আক্তার পার্শ্ববর্তী গ্রামের আল আমিন মাতবরের মেয়ে। আর অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়াল ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীয়তপুর-ডামুড্যা আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার আজগর ছৈয়ালের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ ও ঘটনার পটভূমি: স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়ার সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই লামিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন রবিউল। ইতিপূর্বে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিলে লামিয়ার বড় বোন ২০ হাজার টাকা প্রদান করলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও টাকার দাবি তুললে বাধ্য হয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি চলে যান লামিয়া।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষে সবাই চলে যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে রবিউল তাঁর স্ত্রী লামিয়াকে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে যান। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁর গলা ও দুই হাতের রগ কেটে পালিয়ে যান রবিউল। পরে ডোবার পাশ থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য: হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।