মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সরকার জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ৩৪৫.৩৫ রুপি এবং পেট্রোল বিক্রি হবে ৩১৬.১৫ রুপি দরে। নতুন এই সিদ্ধান্তে ডিজেলের দাম ৩১.০৫ রুপি এবং পেট্রোলের দাম ৫.৪৪ রুপি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার এবং ডিজেলের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছেছে। পাকিস্তান যেহেতু তাদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশটির অর্থনীতি মুক্ত থাকতে পারেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ মানুষের জন্য ফেডারেল তহবিল থেকে ১৩০ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করেছেন বলে মন্ত্রী জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুঃসময়েও গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন, কৃষি খাত এবং মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য ভর্তুকি সুবিধা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার। তিনি জানান, বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কোনো কোম্পানি যাতে অবৈধভাবে মুনাফা করতে না পারে তা নিশ্চিত করা হবে।
বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। ভবিষ্যতে জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ই-ভ্যাহিকেলের দিকে ঝুঁকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। পেট্রোলিয়াম শুল্ক নতুন করে বাড়ানো হয়নি উল্লেখ করে সরকার বলছে, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে সীমিত সামর্থ্যের মানুষের ওপর চাপ কমাতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন