বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি অবশেষে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়া পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ কক্সবাজার এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহের রেশ পুরোপুরি কেটে গেছে এবং এখন সারা দেশেই বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির এই সতর্কবার্তার কারণে বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের মতে, নিম্নচাপটি শক্তিশালী হওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে, তাই মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকায় তাপমাত্রা অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে, তবে বৃষ্টির কারণে চলাচলে কিছুটা ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
নিম্নচাপের এই প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত কেবল তাপমাত্রা কমাতেই সাহায্য করছে না, বরং তা কৃষি এবং জনজীবনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য আবহাওয়া অফিস নিয়মিত আপডেট চেক করার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে যারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করেন, তাদের ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সরকারিভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সমুদ্র ও নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই সময়টুকু সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন