দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি: একই গরু বিক্রি সাতবার!

০ শেয়ার
শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি: একই গরু বিক্রি সাতবার!

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে মানতের গরু বারবার বিক্রি ও দানের অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মাজারকেন্দ্রিক অন্ধকার সাম্রাজ্য ও কোটি টাকা লোপাটের চিত্র।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজারে আধ্যাত্মিক পরিবেশকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট।
  • যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ভক্তদের মানতের একটি গরু একাই সাতবার বিক্রির মতো ভয়াবহ প্রতারণার তথ্য।
  • মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সংঘবদ্ধ চক্রটি শুধু গবাদি পশু বা দানের টাকা নয়, বরং স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের মানতের সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকার অন্ধকার সাম্রাজ্য তৈরি করেছে।

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজারে আধ্যাত্মিক পরিবেশকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ভক্তদের মানতের একটি গরু একাই সাতবার বিক্রির মতো ভয়াবহ প্রতারণার তথ্য। মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সংঘবদ্ধ চক্রটি শুধু গবাদি পশু বা দানের টাকা নয়, বরং স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের মানতের সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকার অন্ধকার সাম্রাজ্য তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি না থাকায় মাজারে দানের টাকা সরাসরি বস্তাবন্দি করে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স ও ডেক সিলগালা করে সিসিটিভির নজরদারিতে অর্থ গণনা শুরু হলে জালিয়াতির এই চিত্র প্রকাশ্যে আসে। মাত্র ২৫ দিনে পাওয়া গেছে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, ১২ দেশের মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার। অথচ অভিযোগ রয়েছে, সঠিক তদারকি থাকলে এর কয়েক গুণ টাকা পাওয়া সম্ভব ছিল, কারণ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভক্তদের থেকে সরাসরি ‘হাতে হাতে’ টাকা আত্মসাৎ করছে।

মাজারের খাদেমদের মধ্যে থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র এই অপরাধ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে কেরানি সামুন মাহমুদ খান এবং খোকন ওরফে বকরি খোকনের নেতৃত্বে ৩০ জনের একটি দল দৈনিক আয়ের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। মাজারের ভেতরে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও জুতাচোর সিন্ডিকেট সক্রিয় রেখে তাদের কাছ থেকে পার্সেন্টেজ আদায় করা হয়। কোনো ভক্ত প্রতিবাদ করলে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক।

প্রতারণার এই চক্রটি ভক্তদের আনা গরু-ছাগল গোয়ালঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নতুন মানতের নামে বিক্রি করে দেয়। বাবুর্চিদের বিরুদ্ধেও মাংস ও শিন্নি চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভক্তদের কেনা দামি গিলাফ ও গোলাপজল সরিয়ে নিয়ে পুনরায় বাজারে বিক্রির মাধ্যমে তারা লুটে নিচ্ছে অগাধ সম্পদ। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে অনিয়ম অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং বিষয়টি দুদকের নজরেও রয়েছে। পবিত্র মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের ভক্তিকে ব্যবহার করে যারা এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নামে প্রতারণা

2

শুভেন্দু বাবুকে থামান: সংসদে জি এম সিরাজ

3

কুষ্টিয়ায় হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৯০ শিশু

4

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

5

অপ্টার বিশ্লেষণে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর জয়ের সম্ভাবনা

6

ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ আদালতের

7

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: বাংলাদেশ বনাম ভারত ফুটবল দ্বৈরথ

8

ভারতে প্রথম নারী সুমো পালোয়ানের বায়োপিক ‘সুমো দিদি’ ট্রেলার প্রকাশ

9

ইপসুচ টাউনকে হারিয়ে লিভারপুলের প্রথম জয়: জোড়া গোলে দ্যুতি ছড়ালেন আইজ্যাক

10

ইসলামি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে কি কাফের হয়ে যাবে?