দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদ খাঁনকে অবিলম্বে তাঁর দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অনভিপ্রেত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্নমত প্রকাশের ওপর চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদ খাঁনকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “পত্রিকা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং লুটপাটের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ মানসিকতার এটি একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।” এই ধরনের রাজনৈতিক ঘটনার দায় প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাটুকারিতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়: ডা. ইরান অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর একধরনের প্রশ্রয় ও আনুকূল্য পাওয়ার কারণে রাশেদ খাঁন বারবার অযাচিত বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে তাদের এহেন কর্মকাণ্ডকে ছায়া দেওয়া হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
‘আমার দেশ’ পত্রিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দৈনিক আমার দেশ কেবল একটি সাধারণ সংবাদপত্র নয়; বরং আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, মজলুম ও স্বাধীনতাকামী মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে পত্রিকাটির একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। কোনো সংবাদপত্রের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত বা মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তার জবাব দিতে হবে যুক্তি, তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ দিয়ে—পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার মতো অগণতান্ত্রিক উপায়ে নয়।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান: বিবৃতির শেষাংশে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের মাধ্যমে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা চাটুকার, তোষামোদকারী ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে না, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আস্থাশীল।