টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক অপহরণের পর নৃশংসভাবে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ জন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস আসামিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গলহোড় গ্রামের রাজন মিয়া ও মো. রিফাত, একই এলাকার আব্দুর রউফ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মো. আমির হামজা, কালিহাতী উপজেলার পৌলি গ্রামের আল আমিন এবং দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব মিয়া।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌশলীর (পিপি) বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া গ্রামে নিজ ফুফুর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আসামিরা তার গতিপথ রোধ করে এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের অফিস কক্ষে আটকে রেখে পর্যায়ক্রমে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পাষণ্ড আসামিরা এ সময় গৃহবধূর সাথে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চাইলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেন। দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক আজিজুল হক হাওলাদার তদন্ত শেষে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পরপরই কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।