পশ্চিমবঙ্গে ২১ জুলাইয়ের ‘শহীদ দিবস’ সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেওয়ার’ হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।” একই সঙ্গে অভিষেককে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “২০৩১ সালে আপনি বাইরে থাকলে তবেই তো হিসাব নেবেন!”
গত মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তন ঘটে। নির্বাচনে ৮০টি আসন পেয়ে তৃণমূল প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেলেও পরবর্তীতে দলটিতে তীব্র ভাঙন ধরে। ৮০ জন বিধায়কের বড় একটি অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এবং লোকসভার সাংসদরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে নতুন দলে যোগ দেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূল অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার কলকাতার দুটি আলাদা স্থান থেকে শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালন করে তৃণমূল ও বিদ্রোহী অংশটি।
ওই সমাবেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দল ভাঙানোর রাজনীতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমানো যাবে না বলে হুংকার দিয়ে বলেন, এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ২০৩১ সালে সব হিসাব চুকিয়ে দেওয়া হবে।
অভিষেকের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ২৫ জুলাই আমপান দুর্নীতি সংক্রান্ত ক্যাগের (CAG) ২৮টি প্রতিবেদন বিধানসভায় পেশ করা হবে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে রাজ্যপালের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “কেউ রেহাই পাবে না। যত দুর্নীতি হয়েছে, সব বের করে আনা হবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “আপনি বেঁচে থাকতেই প্রমাণ করে দেব, আপনি প্রতিষ্ঠিত ‘চোর’।”
মন্তব্য করুন