|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তরুণদের আন্দোলনের মুখে মোদি সরকারের নতি স্বীকার: নেপথ্যের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

দেশের তরুণ সমাজের তীব্র ছাত্র আন্দোলন এবং নিট-ইউজি প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ওড়িশার প্রভাবশালী এই বিজেপি নেতা ২০২১ সাল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও ক্রমবর্ধমান জনরোষ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে নতি স্বীকার করেই তাকে এই পদ ছাড়তে হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সরকারের ওপর তরুণ প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট প্রশমিত করাই ছিল এই পদত্যাগের মূল রাজনৈতিক কৌশল।

চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মূলত সংকটের সূত্রপাত হয়। পরীক্ষার কিছুদিন আগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘গেজ পেপার’-এর সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর ১২ মে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরীক্ষাটি বাতিল করে এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত নতুন পরীক্ষা নেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন থামানো সম্ভব হয়নি।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ আর সরকারের কোনো কথায় কান দিতে প্রস্তুত ছিল না। বিশেষ করে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো সংসদীয় এজেন্ডাকে অচল করে দিতে পারত। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল এই যে, এই পরীক্ষায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তরুণ ও পরিবারগুলো মূলত বিজেপির মূল ভোটার ভিত্তি। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই যুবসমাজ যদি ব্যবস্থার ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে দলটির জন্য ক্ষতিকর।

এর আগে জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা প্রচার সংক্রান্ত প্রবিধান প্রত্যাহার এবং মে মাসে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটির মতো ঘটনাগুলো সরকারের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে দলীয় সূত্রগুলো বারবার জোর দিয়ে বলছে, ওড়িশার প্রভাবশালী ওবিসি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগকে তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়ানো এবং সরকারের প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডাকে অক্ষুণ্ণ রাখাই ছিল মোদি সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার, যার পরিণতিতেই এই বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’:

1

বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘আওয়ারাপন ২’, বিশ্বজুড়ে আয় ১৭০ কোটির প

2

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত,

3

পেনসিলভেনিয়া লটারি ফলাফল: ২৫ জুলাই ২০২৬ এর বিজয়ী নম্বরসমূহ

4

সালমান শাহের লাশ উত্তোলন: আবেদন নথিভুক্ত, আগের আদেশ বহাল

5

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত: ভারতীয়

6

তুরস্ককে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুভসূচনা

7

বগুড়ায় যাত্রা শুরু করল নারীদের জন্য বিশেষ গোলাপি বাস সার্ভিস

8

সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

9

সিরিয়ার বিমানঘাঁட்டিতে ইসরায়েলি হামলার কঠোর সমালোচনা যুক্তরা

10

পাবনার ঈশ্বরদীতে ডিজেল সংকট ২০২৬ | কৃষকদের দুর্ভোগ ও মন্ত্রী

11

মিয়ানমারে ৬ মাসে ৭ শতাধিক বেসামরিক হত্যা

12

গাইবান্ধায় শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্তকে গণধোলাই

13

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট

14

ডেঙ্গু বাড়লে অতিরিক্ত চিকিৎসক দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

15

জার্মানির নকআউট মিশন: মুসিয়ালা ও ভির্টজকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

16

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে দুই সন

17

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যম

18

আলজেরিয়া বনাম গুয়াতেমালা প্রীতি ম্যাচ: রাত দেড়টায় মাঠে নামছ

19

এআইনির্ভর মাইক্রো-ড্রামায় বিলিয়ন ডলারের বাজার গড়ছে চীন

20