মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অচলবস্থা ও উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর গতকাল বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০৩ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগের দিন এটি ৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছেছিল, যা চলতি মাসের ৭ তারিখের পর ছিল সর্বোচ্চ। পাশাপাশি আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১০৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন হামলা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনার কারণে তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা ফেডকে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে, যা মূলত স্বর্ণের বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে বাজার ধারণা করলেও, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বর্তমানে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারেও এই দরপতনের প্রভাব দেখা গেছে; যার মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
মন্তব্য করুন