ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ ফুটবল দলের খেলার স্বপ্ন এখনো অধরা থাকলেও, ২০২৬ সালের এই বিশ্বমঞ্চে একেবারেই অনুপস্থিত নয় লাল-সবুজের দেশ। মাঠের খেলায় না হলেও, ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম এই আসরের জমকালো সাংস্কৃতিক মঞ্চে এবার অত্যন্ত গর্বের সাথে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। কানাডার টরন্টোতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের সাথে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিশ্বখ্যাত সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। ফুটবলের এই মহোৎসবে তাঁর উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের এক অনন্য প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এছাড়া, এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুল আলোচিত থিম সং ‘সির সির’-এর সহ-প্রযোজক (কো-প্রডিউসার) ও সহ-লেখক হিসেবে যুক্ত আছেন আরেক গুণী বাংলাদেশি গিটারিস্ট ও সংগীতজ্ঞ রাসেল আলী। ফলে মাঠের বাইরে একাধিক বাংলাদেশির হাত ধরে বিশ্বফুটবলের অফিশিয়াল আয়োজনে এক নতুন ইতিহাস তৈরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই মহোৎসবে পারফর্ম করার আগের দিন এক আবেগঘন বার্তায় সঞ্জয় দেব জানান, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও লালিত স্বপ্নের এক পরম প্রাপ্তি। বিশ্বমঞ্চের প্রতিটি রিহার্সাল ও প্রচারণায় তিনি টি-শার্ট ও পোশাকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, লাল-সবুজ রঙ এবং ‘বাংলাদেশ ১৯৭১’ লেখা ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের দেশের নাম তুলে ধরছেন। বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া এবং চট্টগ্রামে শৈশব কাটানো সঞ্জয় দেব মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সিলিকন ভ্যালিতে অভিবাসী জীবনের চরম অনিশ্চয়তা ও মা-বাবার কঠোর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই মূলত তাঁর আজকের এই আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন। শৈশবে মায়ের গানের সাথে তবলা বাজিয়ে সংগীতের হাতেখড়ি হওয়া এই শিল্পী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বাংলা গান ও সংস্কৃতি একদিন বিশ্বজয় করবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করার গভীর ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বিশ্বমঞ্চে দেশের গৌরবকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন