ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে মার্কিন ফুটবল দল যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ী হলো মার্কিনরা। তবে এই জয়টি কেবল পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ছিল এক কঠিন লড়াইয়ের গল্প, যেখানে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইতিহাস গড়েছেন স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফোলারিন বালোগুন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে এক অপ্রত্যাশিত নাটকীয় ঘটনা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বালোগুনকে। ধারাভাষ্যকারসহ অনেক ফুটবল বোদ্ধার মতে এটি ছিল একটি অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, যা স্বাগতিকদের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে এনেছিল। ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে দীর্ঘ ২৬ মিনিট রক্ষণভাগে বসনিয়ার আক্রমণের ঢেউ সামলানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘক্ষণ চাপে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। বসনিয়া একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৮২ মিনিটে সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটান মালিক টিলম্যান। বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া চোখধাঁধানো এক ফ্রি-কিক ক্রসবারের নিচ দিয়ে জালে জড়ালে স্টেডিয়াম জুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। এই অনবদ্য গোলটিই যুক্তরাষ্ট্রের জয় ও পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে।
এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন রাউন্ড অব ১৬-এ বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। তবে লাল কার্ডের কারণে আগামী ম্যাচে খেলতে পারবেন না মূল স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন, যা দলের আক্রমণভাগের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তবুও বসনিয়ার বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে যে লড়াকু মানসিকতা যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে, তা বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচেও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। ইতিহাসের পাতায় আজকের জয়টি লেখা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের অদম্য লড়াই ও সাহসের প্রতীক হিসেবে।
আপনার কি মনে হয়, বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বালোগুনকে ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কি একইভাবে তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে?
মন্তব্য করুন