বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই প্রতিটি মুহূর্তের লড়াই। গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে এখন প্রতিটি দলই লড়ছে টিকে থাকার জন্য। আজ ফুটবল বিশ্বের চোখ থাকবে হিউস্টন স্টেডিয়ামে, যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মাঠে নামছে জাপানের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মাঝে যেমন উত্তেজনা, তেমনি জাপানের সামুরাই ব্লুদের নিয়ে থাকা বাড়তি প্রত্যাশাও এই দ্বৈরথকে দিয়েছে এক অন্য উচ্চতা।
ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবারের বিশ্বকাপে বেশ কৌশলী একাদশ সাজাচ্ছেন। গোলপোস্টের নিচে লিভারপুলের অ্যালিসন বেকার পুরো গ্রুপ পর্বে অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখিয়েছেন, যা ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বাড়তি সাহস জোগাচ্ছে। রক্ষণভাগে অধিনায়ক মার্কিনিওস এবং গাব্রিয়েল মাগালায়েসের অভিজ্ঞতা আজকের ম্যাচে জাপানের দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক রুখতে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের ছন্দবদ্ধ ফুটবল এবং লুকাস পাকেতার সৃজনশীলতা ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে গতিময় করে তুলবে।
আক্রমণভাগের মূল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবারের বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে আছেন এবং ম্যাথেউস কুনিয়ার সাথে তার জুটি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকির কারণ হতে পারে। ব্রাজিলের সমর্থকরা নেইমার জুনিয়রকে মাঠে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে হয়তো আজকের ম্যাচে শুরুর একাদশে দেখা যাবে না, তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কোচ তাকে দ্বিতীয়ার্ধে নামিয়ে চমক দেখাতে পারেন। তরুণ এন্দ্রিককেও আজকের ম্যাচে বদলি হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে আনচেলত্তির।
অন্যদিকে, জাপান দল তাদের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ এবং দলগত সংহতির জন্য পরিচিত। কোচ হাজিমে মরিয়াসু তাদের দ্রুতগতির ফুটবলের ওপর ভরসা করে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে চাপে ফেলতে চাইছেন। গোলরক্ষক জিওন সুজুকি এবং আক্রমণভাগে আইয়াসে উয়েদা ও দাইচি কামাদার উপস্থিতি জাপানের জয়ের স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছে। ফুটবল ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও জাপানের এই নতুন প্রজন্মের দল যে কোনো সময় বড় অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা রাখে। এখন দেখার বিষয়, কার কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয় এবং কারা জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে।
মন্তব্য করুন