বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায় বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল. শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন. তিনি তাঁর প্রায় তিন মাসের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হননি জানিয়ে উল্লেখ করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই নতুন সরকার বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ.
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সরকারের স্বাধীন বিচারিক মানসিকতার পক্ষে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন. তিনি জানান যে, অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে বিগত প্রায় তিন মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো মামলায় বা কোনো ব্যক্তির পক্ষে কোনো ধরনের ব্যত্যয় লক্ষ্য করেননি. রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার বিন্দুমাত্র ক্ষতি বা পরিবর্তন ঘটুক এমন কোনো রাজনৈতিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক প্রত্যাশার কথা আজ পর্যন্ত কেউ তাঁকে বলেনি, যা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায়.
নিজে এক সময় সাংবাদিকতা করতেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন. তিনি বলেন, রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে একজন রিপোর্টারের মূল কাজ হচ্ছে প্রকৃত সত্যটা জনগণের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা. যেহেতু দেশে বিচার প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, তাই মিডিয়ার মাধ্যমে যাতে কোনো কারণে বিচারিক রায় প্রভাবিত না হয় বা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না ঘটে, সে ক্ষেত্রে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে. এর পাশাপাশি বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নানা অপতথ্যের বিরুদ্ধে প্রকৃত সত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি.
সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির বিদায়ী সভাপতি মাসউদুর রহমান রানার সভাপতিত্বে এই বার্ষিক সাধারণ সভাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়. অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির.
মন্তব্য করুন