দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় প্রতিদিন একটি শিশু হত্যা করেছে ইসরাইল

০ শেয়ার
গাজায় প্রতিদিন একটি শিশু হত্যা করেছে ইসরাইল

ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
  • অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার মুখে এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘নিষ্ঠুর এবং মারাত্মক বিভ্রম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।
  • ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বৈরিতা অবসানের ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে বলে শুক্রবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ইউনিসেফ।

ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার মুখে এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘নিষ্ঠুর এবং মারাত্মক বিভ্রম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বৈরিতা অবসানের ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে বলে শুক্রবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ইউনিসেফ।

যুদ্ধবিরতির অসারতা ও ইউনিসেফের বক্তব্য

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন যে, যে সময়টি সংযম এবং সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত ছিল, সেই সময়েও আট মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশু নিহত হয়েছে। এই ক্রমাগত শিশু মৃত্যু প্রমাণ করে যে এই যুদ্ধবিরতি কতটা ফাঁপা এবং এটি ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরাইলি হামলা থেকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এল্ডার আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব যখন যুদ্ধবিরতির ভাষা নিয়ে কথা বলছে, তখন গাজার পরিবারগুলো তাদের ছেলে-মেয়েদের দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে।

মুখপাত্র জানান, শিশুরা তাদের বাড়ি, স্কুল এবং খেলার মাঠের মতো পাবলিক স্পেসেও নিরাপদ নয়; এমনকি ফুটবল খেলার সময় কিংবা মাছ ধরার সময়ও তারা হামলার শিকার হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ২ বছর বয়সি শিশু নিহত হয়েছে, নিজের তাঁবুর ভেতরে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে এক ১৩ বছর বয়সি কিশোর এবং ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ৫ বছরের শিশু ও তার বাবা।

আহতদের সংখ্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংকট

শুধু মৃত্যুই নয়, অক্টোবরের পর থেকে ৪০০-রও বেশি শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, যাদের অনেকের আঘাতই অত্যন্ত মারাত্মক ও চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো। ইসরাইলের দখলদারিত্বের তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ (হলুদ রেখা) এবং ‘অরেঞ্জ লাইন’ (কমলা রেখা) সীমানার ক্রমাগত সম্প্রসারণের দিকে ইঙ্গিত করে এল্ডার বলেন, অরেঞ্জ লাইনের কাছাকাছি একটু জোরে হাঁচি দিলেও আপনাকে গুলিবিদ্ধ হওয়া লাগতে পারে। তিনি সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে জানান, তাঁবুর ভেতরে থাকা অবস্থায় এক ১২ বছর বয়সি শিশুর বুকে গুলি করা হয়েছে এবং ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে ছোঁড়া গুলিতে ৩ বছর বয়সি এক শিশুর মুখমণ্ডল ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে।

এল্ডার সতর্ক করে বলেন যে, শত শত শিশুর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। কিন্তু ইসরাইল কর্তৃক প্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আহত শিশুদের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি অবরোধ এবং সামরিক বিধিনিষেধের কারণে গাজার শিশুরা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে আটকা পড়েছে। কয়েক মাসের বোমাবর্ষণ এবং অবরোধের পর হাসপাতালগুলো ওষুধ, জ্বালানি, কর্মী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছে।

মানসিক প্রভাব ও লেবানন পরিস্থিতি

গাজার শিশুদের ওপর মানসিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এল্ডার বলেন, গাজার শিশুদের জন্য ভয়, ক্ষতি এবং সহিংসতা এতটাই নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ট্রমা বা মানসিক আঘাত এখন আর তাদের জীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,এটি তাদের শৈশবের পরতে পরতে মিশে গেছে। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধ সমস্ত সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এল্ডার লেবাননের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে গত ২ মার্চ থেকে সহিংসতা বৃদ্ধির পর ইউনিসেফের তথ্যমতে ২৪৭ জন শিশু নিহত এবং ৯৯২ জন শিশু আহত হয়েছে।

সামগ্রিক হতাহতের পরিসংখ্যান

গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩,০১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৭৩,২৭৩ জন আহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১১ অক্টোবর ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি হামলায় ১,০০৭ জন নিহত এবং ৩,১৬৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোপূর্বে দুর্গম এলাকাগুলো থেকে আরও ৭৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর

2

এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু গুরুতর অসুস্থ: সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

3

ইমরান খানের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় পাকিস্তান সরকারের আইনি আপত্তি

4

প্রথম ম্যাচে খেলছেন না নেইমার

5

বাংলাদেশ বড় কিছুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে: ফিফার সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী

6

খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হবে

7

ভৈরবে ফসলি জমি কেটে মাটি পাচারের সময় জাহাজ জব্দ

8

বলিউড অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী: শীর্ষে থেকেও প্রেমের জন্য যেভাবে হারিয়ে যান তিনি

9

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও শান্তি মহাসমাবেশ

10

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ বানাচ্ছে চীন, চিন্তায় ভারত