তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা ব্যারাজ থেকে জলঢাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বেলা ১২টায় স্থানীয় জনগণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় এবং অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান চান। মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীশাসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের এক আমূল পরিবর্তন সম্ভব।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার তিস্তার বর্তমান ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন:
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গতকালই তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিস্তা আবারো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
উজান থেকে আকস্মিক পানি ছাড়ার কারণে শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল ৫২ দশমিক ১০ মিটারে পৌঁছেছে।
এই পানির স্তর বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র পাঁচ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট একসঙ্গে খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, প্রতি বছর তিস্তা অববাহিকার মানুষ খরা ও বন্যার মরণকামড়ে পিষ্ট হন, যার মধ্যে চরাঞ্চলের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামান্য পানি বৃদ্ধিতেই পলি জমা আবাদি জমির বাদাম, ভুট্টা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল পুরোপুরি তলিয়ে যায়। তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব। সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "উত্তরাঞ্চলের মানুষ আর নতুন আশ্বাস শুনতে চায় না, তারা দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং বাস্তবায়ন দেখতে চায়"।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নীলফামারী-২ (নীলফামারী সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতীফ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের একমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ নদী ভারত থেকে প্রবাহিত। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে বন্যা সৃষ্টি করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে ভারতকে মরুভূমিতে পরিণত করার এক অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
মন্তব্য করুন