লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে সিনিয়র ছাত্রদের অমানসিক নির্যাতনে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে ছেলেকে দামি স্কুলে ভর্তি করালেও সেই স্কুলই ছেলের প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন মা শারমিন আক্তার ও বাবা জিয়া উদ্দিন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) হলের ভেতর একটি আইফোন চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে মেহেদীকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
রামগঞ্জের উদয়পুরে অবস্থিত ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
মঙ্গলবার ওই একাডেমির আবাসিক হলে এক ছাত্রের একটি আইফোন মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরির পেছনে মেহেদী হাসানের হাত রয়েছে—এমন অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র মেহেদীকে হলের ভেতরে ডেকে নেয় বেশ কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র। সেখানে কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার ওপর কয়েক ঘণ্টা ধরে চালানো হয় তীব্র ও অমানসিক শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে মেহেদী হলের ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ছেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা জিয়া উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, একটি আইফোনের জন্য তাঁর ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো, অথচ তাঁকে একবার জানালে তিনি নিজেই আইফোন কিনে দিতেন। মায়ের বিলাপ, অন্ধকারে খুব ভয় পাওয়া মেহেদী এখন কবরের আলোহীন ঘরে কীভাবে থাকবে!
মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে হত্যার খবরটি যখনই স্কুল ও আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তখনই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
ঘটনার দিন রাতেই উত্তেজিত জনতা স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী এক সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ:
বৃহস্পতিবার রাতে নিহত মেহেদীর বাবা জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. মান্নানকে তাঁর পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন