ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের জন্য এক বড় দুঃসংবাদ হয়ে এলো রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগোর চোট। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি থাকলেও, তার আগেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত চোটে আসরটি থেকে ছিটকে গেলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। গত সোমবার হেতাফের বিপক্ষে ম্যাচে ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ও মিনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ায় রদ্রিগোর এবারের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অন্তত আট মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
এই আঘাত রদ্রিগোর জন্য কতটা কষ্টের, তা ফুটে উঠেছে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। দিনটিকে জীবনের ‘সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন যে, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইদানীং জীবন তার প্রতি কিছুটা নির্মম হয়ে উঠেছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও, তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রিয়ালের হয়ে মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলো মিস করা এবং প্রিয় দলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে থাকতে না পারার বেদনা তাকে মানসিকভাবে বেশ ভেঙে দিয়েছে।
রদ্রিগোর এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার। নিজে দীর্ঘ সময় একই ধরনের চোটের সঙ্গে লড়াই করায় নেইমার খুব ভালো করেই রদ্রিগোর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছেন। নিজের উত্তরসূরিকে উদ্দেশ্য করে নেইমার এক আবেগঘন বার্তায় মন শক্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি রদ্রিগোকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার ওপর কারও হাত নেই এবং তিনি বিশ্বাস করেন রদ্রিগো আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েই মাঠে ফিরবেন। নেইমারের এই সমর্থন তরুণ এই তারকার জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) এবং রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। বিশ্বকাপের আগে দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় রদ্রিগোর মতো একজন ফরোয়ার্ডকে হারানো সেলেসাওদের রণকৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে দারুণ ছন্দে থাকা এই ফুটবলারের অনুপস্থিতি ক্লাব ও জাতীয় দল—উভয় জায়গাতেই বড় শূন্যতা তৈরি করল। আপাতত অস্ত্রোপচার আর দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়েই রদ্রিগোকে তার ফুটবলীয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টি পার করতে হবে।
মন্তব্য করুন