স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এবারের আসরে রেকর্ডসংখ্যক দল নিয়ে মাঠে গড়ানো ১০৪টি ম্যাচে মোট ৩০৮টি গোল হয়েছে, যা ম্যাচপ্রতি গড়ে দাঁড়ায় ২.৯৬টি। ১৯৭০ সালের পর এটিই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলিং গড়ের রেকর্ড। কাতার বা রাশিয়ার আগের আসরগুলোকে পেছনে ফেলে এবারের টুর্নামেন্টটি পুরোপুরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, যেখানে দলগুলো রক্ষণ ভাঙতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে।
এবারের আসরে গোলের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল উইং থেকে বাড়ানো ক্রস, যা থেকে প্রায় ২৪ শতাংশ বা ৭৫টি গোল এসেছে; যার মধ্যে স্পেনের ফাইনাল জয়ের গোলটিও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া কর্নার, ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি মিলিয়ে সেট-পিস থেকে ৫৪টি গোল হয়েছে। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটের প্রবণতাও ছিল চোখে পড়ার মতো, যা থেকে এসেছে ৪৩টি গোল। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকেও আসরটি ছিল রেকর্ডময়। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতেছেন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। অন্যদিকে, লিওনেল মেসিও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত করেছেন। ক্লাব ফুটবলের দিক থেকে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা সর্বোচ্চ ২২ গোল করে তালিকায় শীর্ষে ছিলেন, আর লিগ হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলাররা মোট ৭৯ গোল করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন।
মন্তব্য করুন