মোবাইলে জনপ্রিয় অনলাইন গেম পাবজি খেলার সুবাদে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে ঘর বাঁধার পর চাঞ্চল্যকর এক পরিণতির খবর সামনে এসেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুকুর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া যুবক অতনু দাসের (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মনীষা ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃত যুবকের পরিবারের জোরালো অভিযোগ, একাধিক যুবকের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এবং সম্পত্তির লোভেই স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছেন অতনুকে। দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকার পর কোচবিহার থেকে অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রায় দু’বছর আগে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার কলেজপাড়া-ডাকরাকুড়ি এলাকার বাসিন্দা মনীষা ঘোষের সাথে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন একটি বেসরকারি টেলিকম সংস্থায় কর্মরত অতনু দাস। শুরুর দিকে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে অতনু কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর মনীষা মোবাইলে পাবজি খেলতে গিয়ে বিভিন্ন যুবকের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেন। মৃতের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিক যুবকের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের আপত্তিকর ও অশালীন ভিডিও দেখতে পাওয়ার পর থেকেই দম্পতির সংসারে অশান্তি শুরু হয়। স্বামী বারবার এসব সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করলেও তা শোনেননি তরুণী। এর মাঝে গত ৩ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অতনুর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে এবং পরদিন তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আকস্মিকতা তো ছিলই, পাশাপাশি মৃত্যুর ঠিক দু’মাস আগেই স্বামীর লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসির নমিনি থেকে বৃদ্ধা শাশুড়িকে সরিয়ে নিজের নাম যুক্ত করেছিলেন মনীষা। ঘটনার দিন থেকেই অভিযুক্ত তরুণী তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে গা ঢাকা দিয়েছিলেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্ত তরুণী কোচবিহারেই লুকিয়ে আছেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় কোতোয়ালি থানার পুলিশের সহায়তায় নিজ বাড়ির এলাকা থেকেই মনীষাকে গ্রেপ্তার করে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময়ও তিনি অন্য চারজন যুবকের সাথে বসে পাবজি খেলায় মগ্ন ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মনীষা দাবি করেছেন যে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন