সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ও রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই লিড পার করে ফেলায় ম্যাচ বাঁচাতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্বাগতিকরা।
সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের রূপকথা গড়া ডাবল সেঞ্চুরির পরও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পাওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে চমৎকার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়েই বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে।
তৃতীয় দিন শেষে বিনা উইকেটে ৭ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজ। চতুর্থ দিনেও বাংলাদেশি বোলারদের কোনো সফলতা পেতে দেয়নি ক্যারিবীয় ওপেনাররা। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম কিংবা তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ কারো বোলিংই ওপেনিং জুটি ভাঙতে পারেনি। ব্রেন্ডন কিং ও জোশ ডা সিলভার সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলীয় রান দ্রুতই ফিফটি পার করে এবং তারা দুজনই হাফ সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে চলেছেন।
হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি ও বাংলাদেশের ইনিংস: এর আগে ম্যাচের তৃতীয় দিনে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। মুশফিক (৩৪), লিটন (২), মিরাজ (১৬) ও হাসান মাহমুদ দ্রুত বিদায় নিলে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল। সে সময় ক্যারিবীয়রা ১৭২ রানে এগিয়ে থাকায় বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে দলের এই দুর্দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ লড়াই করেন তাওহিদ হৃদয়। তাইজুল ইসলামকে (২২) সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রান এবং তাসকিন আহমেদকে (১২) নিয়ে নবম উইকেটে আরও ৮৫ রান যোগ করেন তিনি। ৩০৪ বলে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন তরুণ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিংয়ের সময় পাওয়া ইনজুরির কারণে সাদমান ইসলাম ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় বাংলাদেশের ইনিংস ৩৯৫ রানে (মূলত ১১১.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৮৬ রান) থামে। হৃদয় ৩৫৯ বলে অবিশ্বাস্য এক অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংস খেলেন।
জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো উইকেট না হারিয়ে লিড অতিক্রম করায় ম্যাচের চতুর্থ দিনে বোলারদের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন দ্রুত ব্রেকথ্রু এনে ম্যাচে ফেরার খোঁজে রয়েছে।