মানুষ মাত্রই ভুল করে, তাই মানবিক সম্পর্কের সৌন্দর্য ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে ক্ষমা, সহানুভূতি এবং উদারতার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামে প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে ক্ষমাকে অধিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, কারণ মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল। কোনো মানুষ যদি অন্য কারও জন্য জীবন সহজ করে দেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের পথ সহজ করে দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী যুগের এক ব্যক্তি মানুষের সাথে লেনদেনে অত্যন্ত উদার ছিলেন। তিনি তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিতেন যেন কোনো অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া হয় এবং ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, এই আশায় যে আল্লাহ হয়তো তাকেও ক্ষমা করবেন। এরপর যখন সেই ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন এবং জানান যে, ক্ষমা করার ক্ষেত্রে তিনিই বেশি হকদার।
পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হলে তাকে স্বচ্ছল হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া আবশ্যক এবং সামর্থ্য থাকলে ঋণ মওকুফ করে দেওয়া আরও উত্তম কাজ। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা ও উপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়ে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আমরা কি চাই না আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন? এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য সবকিছু সহজ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সহজ করে দেন।
মূলত অন্যের প্রতি ক্ষমাশীলতা ও দয়া প্রদর্শন কেবল একটি চারিত্রিক গুণ নয়, বরং এটি জান্নাত লাভের এক মহৎ পথ। আমরা যদি মানুষের ভুল ক্ষমা করি, তবেই আল্লাহর কাছে নিজের ক্ষমা লাভের আশা রাখতে পারি। তাই কঠোরতার পরিবর্তে ক্ষমা, দয়া ও সহমর্মিতাকে আপন করে নেওয়াই হোক আমাদের জীবনের ব্রত, কারণ যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার জন্য নিজের অশেষ ক্ষমার দরজা খুলে দেন। আমাদের অন্তরে ক্ষমাশীলতা ও দয়া সৃষ্টি করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।
মন্তব্য করুন