যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি খুব দ্রুত বা সোমবারের মধ্যেই নিজের পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে পারেন—এমন ব্যাপক গুঞ্জনের মাঝেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টারমারের বিদায়ের দাবি তুলেছেন। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া একটি পোস্টে এই দাবি করেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত কোনো তথ্যের ভিত্তিতে নাকি চলমান জল্পনা-কল্পনার অংশ হিসেবে এই মন্তব্য করেছেন, তা পরিষ্কার নয়। ব্রিটেনের পিএ মিডিয়া (PA Media) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো সরাসরি কথা হয়নি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের কেন্দ্র-বামপন্থী লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, ভুল ও অকার্যকর নীতি গ্রহণের কারণেই স্টারমারের এই রাজনৈতিক পতন ঘটতে যাচ্ছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়—অভিবাসন এবং জ্বালানিতে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।’ একই সঙ্গে তিনি উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্র্যাকেটে লিখেছেন, ‘ওপেন নর্থ সি অয়েল!’ উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার যুক্তরাজ্যের উইন্ড ফার্ম বা বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ইরানের যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন অবস্থানের সাথে যুক্তরাজ্যের একমত না হওয়ার কারণেও দুই নেতার সম্পর্কে বেশ তিক্ততা তৈরি হয়েছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে সিএনএন-কে কিয়ার স্টারমারের শুক্রবারের দেওয়া সর্বশেষ বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সেই বিবৃতিতে স্টারমার বলেছিলেন, ‘এখনও অনেক কাজ করার বাকি আছে এবং আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। দেশের সেবা করার জন্যই আমি নির্বাচিত হয়েছি।’ মুখপাত্র জানান, এই মুহূর্তে নতুন করে বলার মতো আর কিছু নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক মন্ত্রী পিটার কাইল রোববার বিবিসি-কে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সপ্তাহান্তে দেশের বর্তমান ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা’ নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন এবং তিনি অবশ্যই দেশের সর্বোত্তম স্বার্থে যা করা দরকার, সেটাই করবেন।
যুক্তরাজ্যের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে জোরেশোরেই প্রচার করা হচ্ছে যে, সোমবারই কিয়ার স্টারমার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। দলের ভেতরে ও বাইরে তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামার পর রাজনৈতিক সমর্থন এখন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের দিকে ঝুঁকছে, যিনি সম্প্রতি একটি উপ-নির্বাচনে বড় জয় লাভ করে পার্লামেন্টে ফিরেছেন। যদি এই জল্পনা সত্য প্রমাণিত হয় এবং স্টারমার পদত্যাগ করেন, তবে তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
মন্তব্য করুন