মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর দায়ের করা এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক ছয় মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সিএনএস লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের এবং আনিসুল হক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কোনো দরপত্র আহ্বান বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা ছাড়াই সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎস থেকে টোল আদায়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি সার্ভিস চার্জ বাবদ ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়, যা ২০১০-২০১৫ মেয়াদে অন্য কোম্পানির খরচের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই একক উৎসভিত্তিক চুক্তির কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে মাত্র ৬৭ কোটি টাকায় তিন বছরের চুক্তিতে কাজ পেলেও আগের চুক্তিতে আর্থিক অনিয়মের মাত্রা ছিল অত্যন্ত প্রকট। ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূত এই চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের গতিপ্রকৃতি এখন সবার নজর কেড়েছে। আদালতের ২০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন