ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিন স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৬৭.৫১ ডলারে নেমে আসে, যা ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন। একই সাথে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ১.৬ শতাংশ কমে ৪,০৮৩.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, উচ্চ সুদের হার সমৃদ্ধ পরিবেশে এটি তার আবেদন হারাচ্ছে। এছাড়া মার্কিন ডলার গত এক বছরের মধ্যে তার শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রুপার দাম ০.৯ শতাংশ কমে ৬১.৪৪ ডলারে, প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৬৩৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ০.৮ শতাংশ কমে ১,২২৭.৪১ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন করে তাদের কৌশল নির্ধারণ করছেন।
ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুসারে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা স্বর্ণের দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য ব্যয় (PCE) তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা মার্কিন মুদ্রানীতির পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন