হাতে পিস্তল নিয়ে ধাওয়া করার ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও মন্ত্রিত্ব হারানোর ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনায় তিনি বিন্দুমাত্র ভুল করেননি এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনেও মাথা উঁচু করে স্পষ্ট করেছেন।
: হাতে পিস্তল নিয়ে লোকজনকে ধাওয়া করার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে। সম্প্রতি যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার নূরে আলম জিকুর সঙ্গে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।
গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় হাতে হ্যান্ডমাইক ও পিস্তল নিয়ে ইশরাক হোসেনের গাড়ি থেকে নেমে লোকজনকে ধাওয়া করার সেই ভিডিওটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে তাকে পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং গত ২০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইশরাককে দুর্বল করা হলে জামায়াত, এনসিপি বা আওয়ামী লীগ লাভবান হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, বিশ্লেষকরা তাদের বিশেষ জ্ঞান থেকে কথা বললেও তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি তাকে সবসময় স্নেহ ও আস্থার চোখে দেখেছেন বলে জানান তিনি।
নিজের বড় কোনো ভুল হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মানুষ হিসেবে ছোটখাটো ভুল হতে পারে, তবে সম্প্রতি অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করার ঘটনাটিতে তিনি "বিন্দুমাত্র কোনো ভুল করেননি"।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "এটি আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনেও মাথা উঁচু করে বলে এসেছি। এলাকা থেকে মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করা অস্ত্রটি কিছু সময়ের জন্য প্রদর্শন করেছিলাম... এখানে এক সেকেন্ডের জন্যও আমি কোনো অন্যায় বা ভুল করিনি এবং আমৃত্যু আমি এ অবস্থানেই অটল থাকব।"
কারও অন্ধ পরামর্শে তিনি রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে ইশরাক জানান, আন্দোলনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বা কাজের দায়দায়িত্ব তিনি নিজেই নিতে প্রস্তুত। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও এলাকার মাদক নির্মূলের লড়াইয়ে তিনি আগামীতেও অটল থাকবেন বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন