গণহত্যার বিচারের ধীরগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশসহ দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট [cite: গণহত্যার বিচারের ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় জোট। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা।]।
দেশে চলমান গণহত্যার বিচারের ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট [cite: গণহত্যার বিচারের ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় জোট। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা।]। সোমবার (২২ জুন) সকালে ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য ও উদ্বেগ তুলে ধরেন [cite: সোমবার (২২ জুন) সকালে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।]। জোটের শীর্ষ নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলবেলায় রাজধানীর বিজয়নগরে একটি বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে [cite: তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছে ১১ দলীয় জোট।]। এই সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ সারির নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন। রাজধানীর এই সমাবেশ ছাড়াও একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই দেশের সবকটি জেলায় একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে এই রাজনৈতিক জোটটি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতিবেশী দেশ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত করলেও তা নিয়ে বর্তমান সরকারের কোনো মাথা ব্যাথা বা কার্যকর পদক্ষেপ নেই, যা ১১ দলীয় জোটকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে [cite: ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, সীমান্তে প্রতিবেশী দেশ অস্ত্র মজুত করলেও তাতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে এসব ঘটনায় ১১ দল উদ্বিগ্ন।]। এর পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা এবং পুশ-ইন (অনুপ্রবেশ) ইস্যু মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও অনেক বেশি খারাপ এবং নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন [cite: এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়েও খারাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।]।
২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট করে বলেন, এই তারিখটিকে ঘিরে দেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দল যদি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা বা মাঠে নামার চেষ্টা করে, তবে আইনিভাবে তা প্রতিহত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা রুখে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা যে একমাত্র রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ওপর বর্তায়, তিনি মূলত সেই বিষয়টিই স্মরণ করিয়ে দেন।