মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ভয়াবহ দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত—এই ছয় মাসে দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী (২২৪ জন) ও শিশু (১৫৩ জন) রয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, তাদের কাছে থাকা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যার একটি অংশমাত্র।
জাতিসংঘের মতে, এই মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে জান্তা বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য আকাশপথের সরঞ্জাম ব্যবহার করে চালানো হামলায় মোট নিহতদের ৫৭ শতাংশ বা অন্তত ৫০৫ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি স্পষ্টভাবে এই হত্যাকাণ্ডের দায়ভার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়েছেন।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমার এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জান্তা সরকার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে চলতি বছর একটি বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে তাদের মিত্ররা কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। নির্বাচনকালীন এই সময়ের মধ্যে জান্তা বাহিনীর এই সহিংস আচরণ বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা জান্তা বাহিনীর আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রধান শিকারে পরিণত হয়েছে। যদিও জান্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে বরাবরই অস্বীকার করা হয়, তবে জাতিসংঘের এই তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে মিয়ানমারের সামরিক শাসনবিরোধী চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন