দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং নতুন শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক এক বিশেষ ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানান [cite: সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।]। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) যৌথভাবে এই ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে। বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার [cite: এই রূপান্তরের সময়কে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদন ভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।, বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।]।
বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান:
সময় হ্রাস: একটি নতুন ব্যবসা বা কোম্পানি শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লেগে যেত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার বৈপ্লবিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলসি খোলার সুবিধা: এই আদর্শ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী তাঁর কোম্পানির ১৫তম দিনেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ব্যাংক এলসি (LC) খুলতে পারবেন।
বাস্তবায়ন কমিটি: ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার সময় কমানো এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাজের ওভারল্যাপ (পুনরাবৃত্তি) দূর করতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে [cite: ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।]। আগামী জুলাই মাসে এই সমস্ত পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত কীভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেওয়া হবে।
জাতিসংঘের সিডিপি (CDP) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের যে সময়সীমা নির্ধারণ ও সুপারিশ করেছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার সুযোগ হিসেবে না দেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের একটি পরিকল্পিত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী [cite: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।]। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ এবং উৎপাদন ভিত্তি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে [cite: এই রূপান্তরের সময়কে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদন ভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।]। সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে উল্লিখিত ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির ধারণাটি বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি এবং এটি কোনো অলঙ্কারিক শব্দ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন [cite: তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।]।
বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমান্বয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন [cite: বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।]। এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং ব্যবসায়িক সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ বা RBC Cell প্রতিষ্ঠা করেছে [cite: বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে।]। এই সেলটি মূলত বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয় সাধনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে [cite: এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।]।
ডিব্রিফিং সেশনের এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক মহলের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা [cite: অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।]।
মন্তব্য করুন