ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন এক সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বা রিফুয়েলিং সামরিক বিমান সফলভাবে ইসরাইলে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম।
ইসরাইলভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’ দেশটির বিমানবাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রামন বিমানবন্দরে মোট ১০০টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সামরিক কর্মকর্তা আরও জানান, ‘ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের চলমান সামরিক অভিযান বা তৎপরতা আরও জোরদার করতে চায়, তবে ইসরাইলি ভূখণ্ডে আরও অধিক সংখ্যক রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করার আবশ্যকতা দেখা দেবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এই বিমানগুলো তেল আবিবের অতি নিকটবর্তী কৌশলগত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অবতরণ করতে পারে।’
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে দেশটির বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৩টি রিফুয়েলিং বিমান স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছে। তবে সামনে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও ভ্রমণ মৌসুম থাকায় এই সামরিক উপস্থিতির কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ইসরাইল কর্র্তৃপক্ষ আগেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে বর্তমানে সুনির্দিষ্টভাবে ইসরাইলের মাটিতে মোট কতটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন রয়েছে, সে বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত শনিবার ইসরাইলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ও বিন্যাস পুনর্বিন্যাস করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরাইল সরকারকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছে।
ওই পরিকল্পনাটির অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত রিফুয়েলিং বিমানগুলো ইসরাইলে পাঠানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিমান দক্ষিণ ইসরাইলের কৌশলগত ওভদা বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং বাকি বিমানগুলো খুব দ্রুতই নির্ধারিত অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক বাহিনীর চালানো আকস্মিক অভিযানের পর থেকেই মূলত ইরানকে ঘিরে গোটা অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর সরাসরি জবাবে তেহরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে।
যদিও বিগত মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবুও সম্প্রতি কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফের এক মারাত্মক যুদ্ধের আবহ ও তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন