যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এবং তাঁর কোনো কণ্ঠস্বরও শোনা যায়নি। এর ফলে দেশটিতে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা, শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। তবে ইরানি কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের দাবি, তিনি পুরোপুরি আড়ালে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের শুরুতে গুরুতর আহত অবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তাঝুঁকি ও মার্কিন হামলার আশঙ্কার কারণেই তাঁকে কঠোর গোপনীয়তায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মোজতবা নিয়মিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছেন। এমনকি গত ১০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও দাবি করেছিলেন যে তিনি মোজতবার সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তবে দীর্ঘ এই অনুপস্থিতি সাধারণ জনগণ ও বিশ্লেষকদের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতানকার মতে, বর্তমান প্রশ্নটি কেবল তিনি বেঁচে আছেন কি না তা নিয়ে নয়, বরং ইরানে আদৌ কোনো কার্যকর সর্বোচ্চ নেতা দৃশ্যমানভাবে কাজ করছেন কি না তা নিয়ে।
দেশের কট্টরপন্থী সমর্থক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এ নিয়ে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। ছবি বা ভিডিওর অনুপস্থিতি জনগণের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় বাড়াচ্ছে। এই সুযোগে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রভাব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমেই মূলত এখন দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডারদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ও স্পিকারও যুক্ত রয়েছেন। তবে সবকিছুর আড়ালে মোজতবার এই অদৃশ্য নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত ইরানি রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন