আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর চরম আঘাত হানতে শুরু করেছে বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ট্রুথ প্রমিজ ৪’ (Operation Truth Promise 4)। ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি ইসরায়েলের ‘চূড়ান্ত পতন’ নিশ্চিত করার লড়াই।
রোববার সকালে তেহরান থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইরান তাদের ভূখণ্ড থেকে কয়েকশ ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল সরাসরি ইসরায়েলের দিকে ছুড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কামিকাজে ড্রোনের বিশাল বহর ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ও ‘অ্যারো’ সিস্টেমকে ব্যস্ত রাখার জন্য পাঠানো হয়েছে। হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই অভিযানে যোগ দিয়ে লেবানন ও লোহিত সাগর থেকে একযোগে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরানের দাবি, তাদের হাইপারসনিক মিসাইলগুলো ইতিমধ্যে তেল আবিব ও হাইফা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই বিশাল আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন রণতরীগুলো ভূমধ্যসাগর থেকে ইরানি মিসাইল ভূপাতিত করার কাজ শুরু করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি বাঙ্কারে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পালটা হিসেবে ইরানের পরমাণু ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে এবং তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। ‘অপারেশন ট্রুথ প্রমিজ ৪’-এর মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কি কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেবে।
মন্তব্য করুন