নিজ দপ্তরের এক নারী সহকর্মীকে যৌন নিপীড়ন করার গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বহুল আলোচিত প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস’ (এএসপি)-এর ২১ সদস্যের বিশেষ ব্যুরো সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
আইসিসির সদস্যদেশগুলোর এই পরিষদ (এএসপি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পরিষদ করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এই কৌঁসুলিকে অবিলম্বে তার সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত রাখা হবে।" তবে ব্যুরো তাদের বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই সাময়িক বরখাস্তের অর্থ এই নয় যে করিম খানকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে, কিংবা এটি চলমান মূল মামলার চূড়ান্ত ফলাফলের কোনো আগাম ইঙ্গিত বহন করে না।
প্রশাসনিক এই বড় সিদ্ধান্তের ফলে আদালতের দৈনন্দিন বিচারিক কার্যক্রমে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলেই মনে করছে এএসপির ব্যুরো। কারণ, ৫৫ বছর বয়সি এই প্রভাবশালী ব্রিটিশ আইনজীবী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ স্বাধীনভাবে মোকাবিলার জন্য গত ২০২৫ সালের মে মাসেই স্বেচ্ছায় আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে ছুটিতে গিয়েছেন। শুরু থেকেই করিম খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছেন।
তবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ফিলিপাইনের বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে চলা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকেও করিম খানকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলাটি বর্তমানে আইসিসির সবচেয়ে আলোচিত ও স্পর্শকাতর মামলাগুলোর একটি।
এএসপির বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, করিম খানের এই আকস্মিক বরখাস্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে যত দ্রুত সম্ভব সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পরিষদের একটি বিশেষ ও জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছর গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালতে সফলভাবে আবেদন করে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন এই ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খান। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিয়েছিলেন তিনি। আর তাই তার এই আকস্মিক বরখাস্তের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিশ্ব কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন