সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর তাঁকে কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনা হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গ্রেফতারের পর স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁকে সে দেশের আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং সেখানে তিনি জামিনের আবেদন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’-এর সাবেক অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং ‘দ্য অ্যারাবিয়ান পোস্ট’-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর সাইফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, দেশটিতে সরকারি ছুটি শেষে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, আদালত হয়তো ট্রাভেল ব্যান বা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রাখতে পারে। তবে তাঁর চূড়ান্ত ভাগ্য পুরোপুরি নির্ভর করবে বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। আদালতের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে পাবলিক প্রসিকিউশন থেকে এ বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।
এদিকে সাইফুর রহমান আরও স্পষ্ট করেন যে, বেনজীর আহমেদকে দুবাই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতারের যে খবর ছড়াচ্ছিল তা সঠিক নয়; মূলত তাঁকে দুবাই মল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুবাইতেই অবস্থান করছিলেন এবং সেখানকার একজন ‘রেসিডেন্ট’ বা স্থায়ী বাসিন্দা। তথ্য রয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে আছেন এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদেশিদের দেওয়া ১০ বছর মেয়াদি ‘গোল্ড কার্ড’ বা গোল্ডেন ভিসা রয়েছে তাঁর। তবে তাঁর গ্রেফতারের প্রক্রিয়া বা অন্যান্য বিষয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন