ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ, ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস সরবরাহ পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারগুলোতেও ব্যাপক ধস নেমেছে।
দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করলেও পরে তা কিছুটা কমে ১০৭.৮০ ডলারে স্থিতি পায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও ১১৯.৪৮ ডলারে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে ১০৩ ডলারে নেমে আসে। যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও সংকটে পড়েছে; বিশেষ করে বাহরাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে (Desalination plant) ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দেশটির পানীয় জল সরবরাহে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় তেহরানের তেল ডিপোগুলো এখনো দাউ দাউ করে জ্বলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস চলাচলের প্রধান রুটগুলো যুদ্ধকবলিত হয়ে পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকেও জড়িয়ে ফেলছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন