প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ফেক কনটেন্ট এখন ইন্টারনেটে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন বা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ধরনের গুজব সামাজিক অস্থিরতা, এমনকি সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।
কিভাবে চিনবেন এআই-জেনারেটেড ফেক কনটেন্ট? এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও বা ছবি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। যেমন— ব্যক্তির চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া, ত্বকের কৃত্রিম উজ্জ্বলতা (Skin Glow), কথা বলার সময় ঠোঁটের অমিল বা আচরণের অস্বাভাবিকতা। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে সব সময় এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো ধরা সম্ভব হয় না।
সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা সম্প্রতি দেশের প্রেস সচিব এক বক্তব্যে জানান, সরকারি পর্যায়ে বর্তমানে মাত্র ৯ থেকে ১০টি ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। আদর্শগতভাবে এই সংখ্যা হওয়া উচিত ছিল ৯ থেকে ১০ হাজার। এই শূন্যতা পূরণে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনতামূলক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গুজব শনাক্তে সহায়ক মাধ্যমসমূহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর যাচাইয়ে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম কাজ করছে:
দেশি প্রতিষ্ঠান: রিউমর স্ক্যানার (Rumor Scanner), ফ্যাক্টওয়াচ (FactWatch), বুম বাংলাদেশ এবং এআই-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম 'খোঁজ'।
আন্তর্জাতিক মাধ্যম: এএফপি ফ্যাক্ট চেক (AFP Fact Check), স্নোপস (Snopes) এবং গুগল ফ্যাক্ট চেক এক্সপ্লোরার।
টুলস: ছবি বা ভিডিও যাচাইয়ের জন্য গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ, ইনভিড (InVID) এবং টিনআই (TinEye) অত্যন্ত কার্যকর।
সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার যেকোনো কনটেন্ট শেয়ার করার আগে তার উৎস বা সোর্স যাচাই করা প্রথম ধাপ। কোনো কিছু দেখেই সরাসরি বিশ্বাস না করে তা ফ্যাক্ট চেক করা এবং অন্যদের সতর্ক করা এখন নাগরিক দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন