ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। বিস্তারিত জানুন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এবং এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক সরকারি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই তৃতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অধিবেশন চলাকালীন রাজধানীর জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নির্দিষ্ট ওই সড়কগুলোতে যান চলাচলও সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
যেসব এলাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে: ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে এলাকাগুলোতে এসব নিয়ম কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে,
মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত সমগ্র ময়মনসিংহ রোড।
বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এলাকা।
পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক।
মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন-২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত এলাকা।
রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং পর্যন্ত।
ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এলাকা।
এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের পুরো সংরক্ষিত এলাকা এবং উল্লিখিত সীমানা সীমানার ভেতরে অবস্থিত সমস্ত রাস্তা, অলিগলি ও সংযোগপথ এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিক ও যানবাহন চালকদের এই সময়ে সংশ্লিষ্ট রুটগুলো এড়িয়ে চলার বা বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নগরবাসীকে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।