কুষ্টিয়ায় হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টাতেই জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৯০টি শিশু। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৬৩ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলাকে এই সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সিংহভাগের বয়সই ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে, যাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত হাম-রুবেলার টিকা পায়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডটি রোগীতে ঠাসা, যেখানে ঠাঁই না পেয়ে অনেক শিশুকে বারান্দায় থেকেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট আর শরীরে লালচে দানার মতো উপসর্গ নিয়ে আসা এই শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হলেও সেখানেও শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন যে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ নেই, যার ফলে তাদের সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিনের এই বাড়তি খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ আয়ের মানুষগুলো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপরতা শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে তাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণের ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন