শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অভিনব আন্দোলন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে মেলার অবশিষ্টাংশ ভেঙে নিজেদের ট্রাক্টর দিয়ে পুরো মাঠে জমি চাষ করেছেন আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সরকারের নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। ওই জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গবেষণার মাঠ দাবি করে সেখানে থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবশিষ্ট অবকাঠামো ভেঙে ফেলে ট্রাক্টর দিয়ে প্রতীকী হাল চাষ করেছেন তাঁরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামার থেকে দুটি বড় ট্রাক্টর নিয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিলসহ পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রবেশ করেন। এরপর তারা মেলার মাঠের অবশিষ্টাংশ ও অস্থায়ী স্থাপনাগুলো ভেঙে দেন এবং ট্রাক্টর দিয়ে সম্পূর্ণ মাঠে জমি চাষ কার্যক্রম শুরু করেন।
আন্দোলনের পটভূমি ও অবশিষ্টাংশ অপসারণ: বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এই খামার ও গবেষণা ক্ষেত্রটিতে সচিবালয় স্থাপনের সরকারি পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এর আগে মাঠটি অবিলম্বে শেকৃবির কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানিয়ে সেখানে চলমান ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ বন্ধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলা বন্ধ ও মাঠ খালি না করায় ইতিপূর্বেও কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হলেও মাঠ থেকে আয়োজকরা মেলা সরাতে গড়িমসি করছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও ক্ষোভ: আন্দোলনে অংশ নেওয়া হাসান নামের এক ছাত্র জানান, "এই মাঠটি শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার অংশ নয়, বরং গোটা শেরেবাংলা নগর এলাকার পরিবেশ রক্ষা করার একমাত্র প্রাকৃতিক ফুসফুস। এই ঐতিহাসিক গবেষণা মাঠে যদি সচিবালয় করা হয়, তবে আশপাশের পরিবেশ ও সবুজ জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। মাঠটি অবিলম্বে শেকৃবিকে বুঝিয়ে দিয়ে সেখানে নিবিড় সবুজায়ন করতে হবে।"
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি আদেশের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ী স্থাপনাগুলো গুটিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মেলার আয়োজক কমিটি। তবে তারা তা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আঁতাত করে সমঝোতার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে মেলার স্টল কর্মচারীরা জানান, মেলা বন্ধের আদেশের পর তাঁরা মালামাল সরিয়ে নিতে চাইলে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের বাধা প্রদান করা হয়েছিল।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে শেকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, "শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবির স্বপক্ষে আন্দোলনে নেমেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত রাখতে এবং নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।