২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী বড় ধরনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। তাদের শিক্ষাবছর বাঁচাত আগামী এক মাসের মধ্যে বিশেষ পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন।
২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও মানসিক চাপ কমাতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত ফলাফলে মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা সর্বোচ্চ এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করেছেন, তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষায় এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করলে শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করে পরবর্তী ব্যাচের সাথে পরীক্ষায় বসতে হতো। এতে শিক্ষার্থীদের এক বছর সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক মানসিক চাপের সৃষ্টি হতো। এ অচলাবস্থা দূর করতেই সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে ফেল করাদের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে (এক সপ্তাহের প্রস্তুতি শেষে এক মাসের মধ্যে) পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন বলেন, “এক বা দুই সাবজেক্টে অকৃতকার্যদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করায় শিক্ষার্থীদের একটা বছর নষ্ট হবে না। তারা দ্রুত উচ্চশিক্ষায় পছন্দের বিষয়ে ভর্তি কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন, যেখানে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, এ বিশেষ উদ্যোগের ফলে প্রায় চার লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শিক্ষাবর্ষ রক্ষা করার সুযোগ পাবেন।