বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি কিছু ম্যাচের সিদ্ধান্ত ও রেফারি নিয়োগ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার ঝড় উঠলেও এর পেছনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং দীর্ঘমেয়াদী। ফিফা বিশ্বকাপের জন্য রেফারি নির্বাচনের কাজটি টুর্নামেন্ট শুরুর তিন বছর আগে থেকেই শুরু হয়। এই সময়কালে ৬টি কনফেডারেশন ও ৫০টি সদস্যদেশ থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাছাই করে ‘ফিফা টিম ওয়ান’ গঠন করা হয়। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনার তত্ত্বাবধানে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কেবল রেফারির দক্ষতা নয়, বরং তাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিটি ম্যাচের জন্য রেফারিং দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফিফা বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ মেনে চলে। ফিফার প্রধান নিয়ম হলো কোনো দেশের রেফারি সাধারণত সেই দেশের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন না, যা মূলত স্বার্থসংঘাত এড়ানোর জন্য করা হয়। এছাড়া রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কারণে যেসব দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকে, সেসব দেশের ম্যাচেও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিদের সিদ্ধান্তের যথার্থতা, ভিএআর-এর সাথে সমন্বয় এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে চলতি টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সই বড় ভূমিকা রাখে। গ্রুপ পর্বে যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিখুঁতভাবে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, কেবল তাদেরই সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফিফার ফিটনেস কোচ, চিকিৎসক এবং বিশ্লেষকরা নিয়মিত রেফারিদের ওপর নজর রাখেন, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত থাকেন। সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচের রেফারি নিয়োগ কেবল খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়, বরং তথ্য-উপাত্ত ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া একটি অত্যন্ত সতর্ক ও পেশাদার প্রক্রিয়া।
মন্তব্য করুন