মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা ও সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মানিক পশারীকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।
তাাঁদের দাবি, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানিক পশারীর কোনো অবদান ছিল না। শুধুমাত্র মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গঠিত মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরষ্কার হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন ও মির্জা জহিরুল হক এই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, "মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল। ১৯৭১ সালে তিনি বা সাঈদী কেউই ওই ধরনের ভূমিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না। সরকারের গেজেটে নাম থাকার কারণেই বাধ্য হয়ে পুলিশ প্রশাসন তাঁকে সম্প্রতি গার্ড অব অনার দিয়েছে, তবে স্থানীয়রা ও আমরা জানি তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।"
অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপে ফেলে বা প্রলোভন দেখিয়ে মানিক পশারীকে দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ানো হয়েছিল। এরপর তাঁর মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিষয়ে আর কোনো সঠিক যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সে মারা যান মানিক পশারী। তাঁর মৃত্যুর পর পিরোজপুরে গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তীব্র জটিলতার মুখেও প্রশাসনিক নিয়ম মেনে রাতে পুলিশ লাইনসে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে রাত ১টা ২০ মিনিটে নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।