অবৈধ উপায়ে প্রায় শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে। মিরপুরে কর্মকালীন প্রতি মাসে ৭০-৮০ লাখ টাকা আয়ের গুঞ্জনসহ ঢাকা ও টাঙ্গাইলে তাঁর নামে-বেনামে থাকা বিপুল সম্পত্তি খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকার মিরপুরে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর প্রতিমাসে অবৈধ আয় ছিল ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই দুর্নীতি পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাকরিজীবনে নানা অনিয়মের কারণে শাস্তিমূলক বদলির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সর্বশেষ টাঙ্গাইলের কালিহাতি থেকে তিনি অবসরে যান।
নুরুল আমিনের উল্লেখযোগ্য অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে—
টাঙ্গাইল: বিশ্বাস বেতকা এলাকায় স্ত্রীর নামে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫ তলা বাড়ি ও জমি, পুরোনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘প্যারাডাইস শাহ আলী সিরাজ নিবাস’-এ দুটি ফ্ল্যাট (যা সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে), ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে ৭০ লাখ টাকার দোকান এবং বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে ৬০ লাখ টাকার বাড়ি।
ঢাকা ও পূর্বাচল: রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় ৭ কোটি টাকার মূল্যের প্লট এবং মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে দোকান ও অফিস।
এ ছাড়া নিজের বড় ভাই, বোন, ভাগ্নে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও নামে-বেনামে বিস্তর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তিনি। এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলে শুরুর দিকে কিছু সম্পত্তির সত্যতা স্বীকার করলেও পরে সুনির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি অভিযুক্ত নুরুল আমিন।
এদিকে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁর ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল ও চাকরিজীবনের আয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।