ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিডস ইউনাইটেড ম্যাচে মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের বিরতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি এল্যান্ড রোডে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে রোজা ভাঙার সুযোগ করে দিতে বিরতি দিলে গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি দেন লিডস সমর্থকরা। ঘটনার কড়া সমালোচনা করে সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানের আহ্বান জানান। বৈষম্যবিরোধী সংস্থা 'কিক ইট আউট' এই ঘটনাকে হতাশাজনক বললেও ম্যাচে ১–০ গোলে জয় পেয়েছে ম্যানসিটি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের বিরতিকে ঘিরে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এল্যান্ড রোডে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিডস ইউনাইটেড-এর ম্যাচে ১৩তম মিনিটে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
রমজান মাসে রোজা পালনরত সিটির খেলোয়াড়দের ইফতারের সুযোগ করে দিতেই এই বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় ওমর মারমৌশ, রায়ান আইত-নৌরি ও রায়ান শেরকি পানীয় পান করে রোজা ভাঙেন। বেঞ্চ থেকে উঠে ইফতারিতে অংশ নেন আব্দুলকদির খুসানোভও। তবে বিরতির মুহূর্তে লিডসের গ্যালারি থেকে কিছু সমর্থক দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে ধর্ম ও বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার লিগের অনুমোদিত প্রটোকল অনুযায়ী রোজাদার খেলোয়াড়দের ইফতারের জন্য এক-দুই মিনিট সময় নেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বিষয় হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে লিডসের সহকারী কোচ এডমন্ড রিমার বলেন, বিষয়টি থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী সংস্থা Kick It Out ঘটনাটিকে ‘ব্যাপক হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতারের জন্য সাময়িক বিরতি এখন স্বীকৃত প্রটোকল। ফুটবলকে সবার জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, শিক্ষা ও মানসিকতার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখনো অনেক পথ বাকি।
ম্যাচে আন্তোয়ান সেমেনিওর একমাত্র গোলে ১–০ ব্যবধানে জয় পায় ম্যানচেস্টার সিটি।